1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০২:৩০ অপরাহ্ন

বিধিনিষেধ অকার্যকর \ রাত্রিকালিন কারফিউ জারির পরামর্শ

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১

জিএম শাহনেওয়াজ, ঢাকা থেকে \ নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ ঠেকাতে জারি বিধিনিষেধ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার মধ্যে খুলে দেয়া হয় গণপরিবহন। আজ শুক্রবার থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে শপিংমল ও বিপণি-বিতানগুলো। সরকারের পরামর্শ কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে সবকিছু উন্মুক্ত করে দেওয়ায় সর্বত্রই স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে পড়েছে। এ নিয়েও উদ্বিগ্ন আমরা বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনের কোনো বিকল্প নেই এবং এটি কার্যকর করতে সরকার প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তা নিতে পারে এবং জারি করতে পারে রাত্রিকালীন কারফিউ। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাস থেকে মানুষের জীবন রক্ষায় আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আভাস দিয়ে বলেছেন, এটি বৈশ্বিক মহামারী হিসেবে দেখা দিয়েছে এবং তার সরকারও সেই ধাক্কাটা দেখতে পাচ্ছে। তিনি বলেন, মানুষকে বাঁচানোর জন্য আমরা প্রাথমিক কিছু ব্যবস্থা নিলেও ভবিষ্যতে হয়তো আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আমরা সেটা নেব। বিসিএস কর্মকর্তাদের ছয় মাসব্যাপী ৭১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স সমাপনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালী অংশ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। এর আগে বুধবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, স্বাস্থ্যবিধি না মানলে পুরো শহরকে হাসপাতাল বানালেও জায়গা দেয়া যাবে না। গতকাল তার একটি উদাহরণ খুঁজে পাওয়া গেলো আওয়ামী লীগ থেকে নবম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত এমপি ও রুপালি পর্দার নায়িকা কবরী সরোয়ার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তার জন্য আইসিইউ না পাওয়ার ঘটনাটি। স্থাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের গতি রোধের জন্যই গত ২৯ মার্চ সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমে ১৮ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। পরে গত ৫ এপ্রিল (সোমবার) থেকে এক সপ্তাহের বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়, যা জনসাধারণের মাঝে লকডাউন হিসেবে পরিচিতি পায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো সেটি মাত্র দু’দিন পরেই ভেঙে পড়েছে এবং কর্তৃপক্ষ নিজেই শহরের মধ্যে বাস চালনার অনুমতি দিয়েছে। আজ থেকে শপিংমল ও বিপণি-বিতান খুলে দেয়া হয়েছে। এর ফলে অকার্যকর হয়েছে বিধিনিষেধ বা লকডাউন, অন্য দিকে স্বাস্থ্যবিধি পালনের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। গতকাল রাজধানীর মিরপুর, আগারগাঁর, ফার্মগেট, মহাখালী ও তেজগাঁও এলাকা ঘূরে সবকিছু স্বাভাবিক দেখা গেছে। দেশে করোনার প্রার্দুভাব ভয়াবহ পর্যায়ে অবস্থান করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার লেশমাত্র খুঁজে পাওয়া যায়নি। সবাই নির্বিঘেœ মাস্ক ছাড়াই বাসে উঠছে নামছে। এমনকি স্বাস্থ্যবিধি মানায় আইন-শৃঙখলা বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতাও দেখা যায়নি রাজধানীর কোথাও। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক উপদেষ্টা ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, বাস্তবসম্মত লকডাউন ছাড়া সংক্রমণের গতিরোধের আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, নিয়মিত আইন-শৃঙখলা বাহিনী কিংবা সশস্ত্র বাহিনী যাদের দিয়ে অন্য দেশে মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, আমাদের দেশেও তা করতে হবে। নূন্যতম দু’সপ্তাহ কঠোর লকডাউন দিয়ে সব বন্ধ রাখতে হবে। যেকোনো ধরনের জমায়েত বন্ধে কঠোরতার পাশাপাশি লকডাউনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তাদের সরাসরি সহায়তা নিশ্চিত করে আগ্রহী করতে হবে। তিনি বলেন, কিন্তু এবারের বিধিনিষেধ কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে ব্যবসায়ীদের চাপ আর মানুষের দুর্ভোগ কমাতে যান চলাচলে অনুমতি দেয়ার কারণেই। আবার জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অভিভাবকের জমায়েতের সুযোগ দেয়া কিংবা মেলা চালু রাখা ছাড়াও নানা জায়গায় নানা সমাবেশ করতে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তিনি বলেন, কাল (আজ) থেকে ঘোষণা করা হয়েছে শপিংমল ও বিপনিবিতাণ খোলা থাকবে। সরকারের এই দ্বিমুখী আচরণ এর চরম মূল্য দিতে হবে মানুষের জীবনের বিনিময়ে যা কারো কাম্য হতে পারে না। এখনিই পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরণের দুর্ভোগ পোহাতে হবে, এটা নিশ্চিত। কারণ করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার যার সংখ্যা ৭৪জন। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সাবেক পরিচালক উত্তম বড়–য়া বলেন, সরকার একসপ্তাহের একটি বিধিনিষেধ (জনগণের চলাচল নিয়ন্ত্রণ) ঘোষণার দু’দিনের মধ্যে তা শিথিল করেছে কয়েকটি গ্র“পের দাবির মুখে, এটা ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, এটা শিথিল করার পেছনে কারণ হলো জনগণের একটি অংশ বিধিনিষেধ তাদের মতো করে মানতে চায়। করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে সুবিধাভোগী গ্র“পের স্বার্থ জলাজ্জলী যেতেই পারে। কিন্তু বড় পরিসরে সরকারকে কঠোরভাবে মানানোর ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। তিনি বলেন, করোনার এই বিপদ থেকে উত্তরণের জন্য প্রচারণা জোরদার করতে হবে এবং তা হতে হবে জনগণকে সম্পৃক্ত করে। প্রচারণা এমনভাবে করতে হবে যাতে জনগণ মনে করে সরকার তাদের স্বার্থেই কাজটি করতে চাচ্ছে। আইইডিসিআরের সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও করোনা সংক্রান্ত পরামর্শ কমিটির সদস্য ড. মুসতাক আহমেদ বলেন, গণপরিবহনের পর শপিংমল খুলে দেওয়ায় করোনা সংক্রমধের ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এগুলো সরকার পরীক্ষামূলকভাবে করছে। সরকার এবং যারা এগুলো খোলায় চাপ প্রয়োগ করেছিল তাদের স্বাস্থ্যবিধি মানায় তৎপর হতে হবে। তবে, করোনায় মৃত্যুর যে হার যাতে সরকার চাইলে এসব সিদ্ধান্তের পুর্নবিবেচনা করতে পারেন।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41