1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ১০:৪৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের ঈদ উৎসব \ উচ্চ করোনা সংক্রমণের শঙ্কা ঘুর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রি বিতরণ সাতক্ষীরার বাজার গুলোতে তালের শাঁসের উপস্থিতি \ তপ্ত শরীর তৃপ্তি আর স্বাদে অদ্বিতীয় সাতক্ষীরায় বৈশাখের টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত \ শহর গামী মানুষের দূর্ভোগ চরমে আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ আমার মা আমাদের মা -ইয়াসমিন নাহার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাতক্ষীরা। সৌদি আরবে চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ বৃহস্পতিবার দেবহাটার সুশিলগাতী আম বাগানে মহিলার লাশ সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ মহামারী ও দূর্যোগকালীন সময়ে মানবিক সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশ্বে দাড়ায় আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে জলবায়ূ পরিবর্তন সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কর্মশালা

লকডাউনে নববর্ষের বারতা

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১

এফএনএস \ আজ বাংলা নববর্ষÑ পহেলা বৈশাখ। বাঙালি যেদিনটি উৎসবের আনন্দে গানে গানে বরণ করে নেয়। কিন্তু গত বছর এ উদযাপন ব্যাহত হয়েছিল করোনা মহামারীর আকস্মিক প্রাদুর্ভাবে। সবার মনে প্রত্যাশা ছিলÑ এবার না হলেও আগামীতে ১৪২৮ বঙ্গাব্দের প্রথম প্রভাত নিশ্চয়ই সবাই মিলে আনন্দোৎসবে মেতে ওঠা যাবে। কিন্তু এবারেও দিনটি কাটাতে হচ্ছে লকডাউনে, ঘরবন্দি হয়ে। বরং বাস্তবতা যেন আরও ভয়াল রূপ ধারণ করেছে, বেড়েছে সংক্রমণ, বাড়ছে মৃত্যু। আনন্দের জায়গায় ভয়, হতাশা এবং অনিশ্চয়তার উদ্বেগ। কী বারতা আমরা দেব এই সময়ে? বাঙালির এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতির ঐতিহ্যের ভান্ডারে ভয়কে জয় করার, হতাশা কাটিয়ে আশায় বুক বাঁধার, উদ্বেগ বিদায় করে ইতিবাচক আবেগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বহু দৃষ্টান্ত আর কাহিনী রয়েছে, আছে অনেক পথের দিশা। এই জনপদের মানুষ বরাবর টিকে থাকার সংগ্রামে জয়ী হয়েছে, দুর্দিনে একে অন্যের পাশে থেকেছে, ত্যাগে-প্রেমে-সাহসে জাতি হিসেবে আমরাই এগিয়ে গেছি। কবি গেয়েছেন Ñ ‘ওই আলো যে যায় রে দেখা Ñ / হৃদয়ের পুব-গগনে সোনার রেখা/ এবারে ঘুচল কি ভয়, এবারে হবে কি জয়?’ হ্যাঁ, কালো মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকে সোনার থালার মতো সূর্যÑ আলোর উৎস, আলোকের ঝরনাধারা। বৈশাখের তপ্ত রোদে পৃথিবী যেন অগ্নি¯œানে শুচি হয়, রোগবালাই কেটে যায়, তখন আকাশজুড়ে শুভ জাগরণগীত ধ্বনিত হতে থাকে। সেটি শোনা যায়, শুনতে পাওয়া আজ জরুরি। সমস্ত হতাশচিত্তে বল ফিরে আসা দরকার। আজ ১৪২৮ বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন এবং সারা মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র রমজানেরও সূচনা। কালের নিয়মে চান্দ্রমাসের হিজরির এই তাৎপর্যপূর্ণ দিন ও সৌর ক্যালেন্ডারের এই প্রথম দিন একসাথে মিলে গেছে। আজ বিশ্ব গভীর সংকটকাল কাটাচ্ছে, আজ বিশ্বমানবতা বিপন্নতায় দুর্দিন কাটাচ্ছে। চিরাচরিত নিয়মে সংযমের এই মাস আসন্ন উৎসবের বারতা নিয়ে এলেও এবারে তারও চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিপন্ন মানবতার জন্যে সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা ও মুক্তি কামনা। মানুষ প্রার্থনায় সময় কাটাবে, অনেকে প্রার্থনার গান গাইবেন। আজ করোনার এই প্রাক্কালে রমজানের দিন, বাংলা নববর্ষের শুভক্ষণে ভাবতে হবে কীভাবে মানবজাতি মূলত অসংযত আচরণের মাধ্যমে নিজের ও পৃথিবীর সর্বনাশ ডেকে এনেছে। বিজ্ঞানীরাও বলছেন, এই অতিমারীর এমন অসংযত আক্রমণের পিছনে মানবজাতির ভোগবিলাসে চরম অসংযমই মূলত দায়ী। আজ আত্মোপলব্ধির দিন Ñ উৎসবের দিন কাটুক ত্রুটি সংশোধনের প্রতিজ্ঞায়, জীবনে সংযত আচরণ ও সাশ্রয়ী ভূমিকা পালনের মাধ্যমে এই ধরিত্রী ও মানুষসহ সকল প্রাণিসম্পদ রক্ষার দৃঢ় অঙ্গীকারে। মানুষ রাক্ষসের ভূমিকায় নামতে পারে না, একজন অন্যের বিনাশে উদ্যত হতে পারে নাÑ অন্যের ভাগ, অন্যের হক আত্মসাৎ করতে পারে না। কিন্তু এ পৃথিবীতে এমন অরাজক অনাচার তো চলছেইÑ যুদ্ধ, সংঘাত, হাঙ্গামা, হানাহানি লেগেই আছে। এটা না ধর্মের পথ, না কোনো জাতির ইতিহাস-প্রদর্শিত পথÑ না কোনো উৎসবের বার্তা হতে পারে। আমাদের আসতে হবে মানবতার পথে, সাধনা করতে হবে মনুষ্যত্বের। করোনা মহামারী এটাও বুঝিয়ে দিয়েছে যে কোনো জনগোষ্ঠী, কোনো জাতি, কোনো সম্প্রদায়, কোনো দেশ বিচ্ছিন্নভাবে আজ ভালো থাকতে পারবে না, পারবে না বাঁচতে। আজ বিশ্বায়নের বাস্তবতা অস্বীকারের উপায় নেই, পরস্পর নির্ভরশীলতার বাস্তবতা এড়ানোর পথ নেই, কেউ একা বাঁচতে পারবে না। বিশ্ব শান্তি রক্ষায় যেমন বাংলাদেশকে প্রয়োজন, তেমনি চিকিৎসা থেকে ধর্ম পালন সব কাজে অন্য ধর্মের মানুষের সহায়তাও নিচ্ছি আমরা। এটাই আজকের বাস্তবতা। আজ জাতীয় কবি নজরুলের মতোই সাম্যের গান গাইতে হবে, মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ ভুলতে হবে। তাঁর কথায় অমর শিল্পী আব্বাস উদ্দিন আহমদের কণ্ঠে নিমগ্নচিত্তে মানুষ শুনেছে প্রার্থনাÑ মানুষ চায় মাঠে সোনার ফসল, ঘরে বন্ধুজন, হৃদয়ে শান্তি। তখন গেয়ে ওঠে ‘আমায় দিয়ে কারো ক্ষতি/হয় না যেন দুনিয়ায়/ আমি কারুর ভয় না করি,/ মোরেও কেহ ভয় না পায়।’ হায়, শক্তিমান মানুষও আজ চায় তাকে অন্যেরা ভয় পাক। একে অপরকে ভয় দেখিয়ে ক্ষমতার প্রতাপে অন্ধ হয়ে মানুষ ব্যক্তিপর্যায়ে যেমন তেমনি জাতি-দেশ ভিত্তিতেও একে অন্যকে বিনাশ করছে, নির্মূল করছে। আর এই অন্ধ শক্তির মূর্খ দম্ভ চূর্ণ করে দিতেই যেন আজ ধরাধামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এক অদৃশ্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণুুজীব, বিশ্বজুড়ে বাধিয়ে দিয়েছে তান্ডব। বহু মূল্য গুণে এবার যদি মানুষের চৈতন্য ফেরে, বোধোদয় হয়, কল্যাণের পথে ফিরে আসে মানবজাতি। তাই এবারে করোনা মহামারীর প্রেক্ষাপটে যে পহেলা বৈশাখ এসেছে তা এনেছে সংযমের বারতা- যা রমজানেরও মূল বাণী, এনেছে অগ্নি¯œানে আত্মশুদ্ধির দীক্ষা নেওয়ার শিক্ষা। নববর্ষে করোনার দূরত্ব মেনেও মানুষের কল্যাণে পাশে দাঁড়ানোর ব্রত পালন করতে হবে।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41