1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৪:২১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের ঈদ উৎসব \ উচ্চ করোনা সংক্রমণের শঙ্কা ঘুর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রি বিতরণ সাতক্ষীরার বাজার গুলোতে তালের শাঁসের উপস্থিতি \ তপ্ত শরীর তৃপ্তি আর স্বাদে অদ্বিতীয় সাতক্ষীরায় বৈশাখের টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত \ শহর গামী মানুষের দূর্ভোগ চরমে আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ আমার মা আমাদের মা -ইয়াসমিন নাহার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাতক্ষীরা। সৌদি আরবে চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ বৃহস্পতিবার দেবহাটার সুশিলগাতী আম বাগানে মহিলার লাশ সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ মহামারী ও দূর্যোগকালীন সময়ে মানবিক সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশ্বে দাড়ায় আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে জলবায়ূ পরিবর্তন সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কর্মশালা

মোদীর ভাবমূর্তি ঝাঁকিয়ে দিয়েছে ভারতের কোভিড-১৯ সঙ্কট

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : সোমবার, ৩ মে, ২০২১

এফএনএস বিদেশ : তার কোভিড-১৯ টাস্কফোর্স কয়েক মাস ধরে বৈঠক করে না। তার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে মার্চে আশ্বস্ত করেছিলেন যে ভারত মহামারীর বিরুদ্ধে ‘লড়াইয়ের সমাপ্তির’ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেও বিশ্ব নেতাদের সামনে দাবি করেছিলেন, তার দেশ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জয়ী হয়েছে। গত জানুয়ারিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ভার্চুয়াল সভায় নরেন্দ্র মোদী যখন বক্তৃতা করছিলেন, ভিডিওতে তার পেছনে উড়ছিল ভারতের পতাকা। তিনি বলছিলেন, ভারত “কার্যকরভাবে করোনাকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মানবজাতিকে একটি বড় বিপর্যয়ের কবল থেকে রক্ষা করেছে।” এখন, করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ ভারতকে এই মহামারীতে বিশ্বের সবচেয়ে বিপর্যস্ত দেশে পরিণত করেছে। এক দিনে চার লাখ রোগী শনাক্তের নতুন বিশ্বরেকর্ড ভারতকে দেখতে হয়েছে এক দিন আগে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদনকারী দেশ হয়েও করোনাভাইরাসের টিকার ঘাটতি দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। হাসপাতালে জায়গা নেই, জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেনের মজুদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। ভারতের বড় বড় শহরে প্রতিদিন শ্মশানগুলোতে হাজারো মানুষের দাহ হচ্ছে, লাশ পোড়া গন্ধ আর ভষ্মে ভারী হয়ে উঠছে বাতাস, আকাশ হয়ে উঠেছে ধূসর, এ যেন অনন্ত মৃত্যুর মিছিল। ভারতের এই উল্টো যাত্রা নতুন এক জাতীয় আলোচনার সূচনা করেছে, যার কেন্দ্রে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষজ্ঞরা একটা সময় কিছুটা আশ্চর্য হয়েই ভাবছিলেন কীভাবে এই জনবহুল দেশটি মহামারীর সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি এড়িয়ে যেতে পারল। এখন তারা সেখানকার তুলনামূলক তরুণ জনগোষ্ঠী ও স্বাস্থ্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে শুরু করেছেন। এমনকি মোদীর সমর্থকেরাও এখন বলছেন যে ভারত একটি বৈশ্বিক পরিস্থিতির শিকার এবং দ্বিতীয় ঢেউ এভাবে ছড়িয়ে পড়ার কারণ বের করতে আরও সময় দরকার। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, মোদীর ‘অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস’ এবং তার ‘কর্তৃত্বপরায়ণ নেতৃত্বের’ ধরনের একটি বড় দায় রয়েছে এমন পরিস্থিতির জন্য। সমালোচকেরা বলছেন, ঝুঁকি না কাটলেও মোদীর প্রশাসন ভারতের এমন একটি ছবি প্রচার করতে চাইছিল, যাতে মনে হয়, দেশ আগের পর্যায়ে ফিরে এসেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য আবার চালু হয়েছে। এক পর্যায়ে, প্রশাসনের কর্তারা বিজ্ঞানীদের সতর্কবার্তাও পুরোপুরি উপেক্ষা করেছেন, যেখানে বলা হয়েছিল ভারতের জনগোষ্ঠী এখনও ঝুঁকিতে আছে, এবং ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জিত হয়নি। এসব সতর্কবার্তা নিয়ে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন এমন কিছু কর্মকর্তাই এখন বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আনছেন। নিজের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা এবং বিরোধীদের ‘প্রবলভাবে দমন’ করার মাধ্যমে গত কয়েক দশকের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাজনৈতিক ব্যক্তিতে পরিণত হওয়া নরেন্দ্র মোদীর দৃঢ় রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এই মহামারীর বিপর্যয়ে অনেকটাই ঔজ¦ল্য হারিয়েছে। বিরোধী নেতারা এখন আক্রমণ শানাচ্ছেন এবং তার কর্তৃত্ব তাকে অনলাইনে সমালোচনার লক্ষ্যে পরিণত করেছে। পার্লামেন্ট নির্বাচনের এখনও তিন বছর বাকি, সরকার ভেঙে যাওয়ার মত কোনো পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি। তাই বলা যায়, মোদীর ক্ষমতা সম্ভবত নিরাপদ। মোদীর সরকার সঙ্কটাপন্ন রোগীদের জন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করার উদ্যোগ জোরদার করেছে এবং টিকাদান কার্যক্রমের পরিধি বিস্তৃত করেছে যেখানে ১৮ বছরের বেশি সবাইকে টিকা দেওয়া হবে। তারপরও দেশজুড়ে এই রোগের বিস্তার ও মৃত্যুর মিছিলের জন্য বহু মানুষ ব্যক্তিগতভাবে তাকেই দায়ী করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। নয়া দিলি­র সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ-এর গবেষক আসিম আলি বলেন, “মোদীর শাসন পদ্ধতিই এই দোষারোপের পেছনে একটি বড় ভ‚মিকা রাখছে, যেখানে শীর্ষ মন্ত্রীদের বেছে নেওয়া হয়েছে তাদের দক্ষতা নয় বরং আনুগত্যের বিবেচনায়, যেখানে স্বচ্ছতার চেয়ে গোপনীয়তা ও ভাবমূর্তি টিকিয়ে রাখার গুরুত্ব বেশি। “এ ধরনের শাসন কাঠামোয়, যখন মোদীর হাত থেকে বল পড়ে যায়, যেমনটি হয়েছে কোভিড মোকাবেলার ক্ষেত্রে, তখন বিপর্যয়ের পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।” সা¤প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন সময়ে, কর্মকর্তারা যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলোও ভারতকে ভুগিয়েছে। ভারত বিশ্বে টিকার ‘পাওয়ারহাউজ’, পৃথিবীকে রক্ষায় তারা টিকা উৎপাদন করছে। কিন্তু নিজেদের রক্ষায় পর্যাপ্ত টিকা শুরুতে কেনেনি মোদীর সরকার। বরং দেশে যখন টিকাদানের হার কম ছিল, নয়া দিলি­ ছয় কোটি ডোজ টিকা বিভিন্ন দেশে উপহার দিয়েছে। সংক্রমণ যখন বেড়ে চলেছে, মোদী বিশাল নির্বাচনী সমাবেশ করার সুযোগ দিয়েছেন এবং তার সরকার হিন্দুদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কুম্ভ মেলায় লাখ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই সমবেত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের সমাবেশে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে ভাষণ দিয়েছেন, যেখানে সমবেত কর্মী-সমর্থকেরাও মাস্ক ছাড়াই অংশ নিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মোদী নিজেকে বিশেষজ্ঞদের পরিবর্তে কেবল ‘মিত্রদের’ ঘেরাটোপে আটকে রেখেছেন। কর্মকর্তারা হয়ত ভয়েই ভুল ধরিয়ে দেওয়ার কোনো চেষ্টা করেনি, মাহামরী কেটে যাওয়া নিয়ে মোদীর ঘোষণার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করারও চেষ্টা করেননি। বরং সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা হয়েছে। ফেইসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টুইটার থেকে সমালোচনামলূক পোস্ট সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। এমনকি অক্সিজেনের জন্য আকুতি জানিয়ে পোস্ট দিয়েও গ্রেপ্তারের হুমকিতে পড়তে হয়েছে। মোদীর দল বিজেপি এবং সরকার মহামারী নিয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাব দিতে রাজি হননি, তার বদলে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের তালিকা দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিত করতে এপ্রিলে এক ডজনের বেশি সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এক বিবৃতিতে ভারত সরকার বলেছে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা ধারাবাহিক সমন্বয় ও আলোচনা করে যাচ্ছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী সাড়া দেওয়ার মত পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া যায়। সেখানে বলা হয়, ফেব্র“য়ারিতে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যগুলোকে কঠোর সতর্কতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছিল, নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে নিষেধ করেছিল। ভারতের যে কোনো নেতাই এমন পরিস্থিতি সঙ্কটে পড়বেন। লাখ লাখ দরিদ্র্য ভারতীয় ‘দিন আনি দিন খাই’ অবস্থায় জীবন যাপন করে, যারা এই উচ্চ সংক্রমণের ভাইরাসের সহজ লক্ষ্যে পরিণত হয়েছে। সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে ভারতের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা উপেক্ষিত থেকে আসছে দীর্ঘদিন। এই খাতে বছরে মাথাপিছু ব্যয় ১০০ ডলারের কম; অনেক উন্নয়নশীল দেশের তুলনায় ভারত পিছিয়ে। তাতে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা মোদীকে সঙ্কটে ফেলে দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মহামারীর প্রথম ঢেউ মোকাবেলায় মোদী এবারের তুলনায় ভালো করেছিলেন। মহামারীর শুরুর দিকেই মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার বিষয়গুলোতে তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। গত বছর ২৪ মার্চ যখন ভারতে ৬০০ জনের কম মানুষের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল, নরেন্দ্র মোদী তার দেশকে অন্যতম কঠোর লকডাউনে নিয়ে যান মাত্র চার ঘণ্টার নোটিসে। বেশিরভাগ মানুষ দায়িত্বশীলভাবে ঘরের ভেতরে অবস্থান করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওই লকডাউন ত্র“টিপূর্ণ হলেও ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের গতি ধীর করতে সহায়ক হয়েছিল। তবে অর্থনৈতিকভাবে এর মাশুল গুণতে হয়েছে যা ভারতকে বিশ্বে একটি বৃহৎ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে আঘাত হানে। মোদী আবারও পিছিয়ে পড়ার ভয়ে ছিলেন। তিনি যখন অনেক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে শুরু করেন, সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে, সেপ্টেম্বরে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা গড়ে প্রায় এক লাখ জনে পৌঁছায়। তবে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা সেই পরিস্থিতি সামলে নেয়। ২০২১ এর শুরুতে যখন সংক্রমণ কমতে শুরু করে এবং অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য ফিরে আসে, মোদী এবং তার দল বলতে থাকেন, ভারত আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। অনেক ভারতীয় মাস্ক পরা বাদ দেয়, সামাজিক মেলামেশা বেড়ে যায়। বিধিনিষেধ আরও শিথিল করা হয় এবং প্রথম ঢেউ চলার সময় বসানো কোভিড-১৯ কেন্দ্রগুলোও তুলে দেওয়া হয়। ভারতের কোভিড-১৯ টাস্কফোর্স, ২০ জন স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা যার সদস্য, মাসে দুটি করে সভা করতেন তারা। অথচ ১১ জানুয়ারি থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তারা একটি সভাও করেননি। টাস্কফোর্সের দুজন কর্মকর্তা জানান, সরকার নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেছিল যে ঝুঁকি কেটে গেছে। ভারত ‘হার্ড ইমিউনিটি’ অর্জনের পথে- সরকারের এমন ধারণার সঙ্গে একমত ছিলেন না বিজ্ঞানীদের অনেকে। তবে তাদের কথায় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। টাস্কফোর্সে যুক্ত অন্তত তিনজ বলেছেন, সেরোলজিক্যাল গবেষণার ফল সরকারের দাবির পক্ষে প্রমাণ দেখাতে পারেনি। গবেষণার সঙ্গে জড়িত দুজন বিজ্ঞানী জানান, সরকার শুধু তাদের পছন্দের অংশটুকুই নিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন ‘সম্ভব হতে পারে’। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করলেও মোদী সমাবেশ চালিয়ে গেছেন। এপ্রিলের মাঝামাঝি, ভারতে যখন দৈনিক শনাক্ত রোগী দুই লাখ ছাড়িয়েছে, এক সমাবেশে তিনি বলেন, “শুধু মানুষ আর মানুষ” দেখে তিনি দারুণ খুশি। মহামারীর মধ্যে মোদীর ছবিও বদলে গেছে। এক বছর আগের বেইসবল ক্যাপ ও সানগ্লাস তিনি ছেড়েছেন, দাড়িও বড় করেছেন। তাকে দেখতে এখন সন্ন্যাসীর মতই লাগে। কার্নেগি এনডোমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস এর দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক মিলান বৈষ্ণব বলেন, “তিনি একজন অনন্য রাজনীতিবিদ। তার ক্যারিশমা আছে, আকর্ষণ করার ক্ষমতা আছে, সঙ্গে আছে খুবই আবেগময় ব্যক্তিজীবনের গল্প; গড় ভোটারদের মধ্যে তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপক। “এমনকি এখনও, এই পরিস্থিতিতেও, জনগণ মোদীকে পছন্দ করে এবং এর পেছনে কোনো একটা যুক্তিও তারা খুঁজে নেবে।”

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41