1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ০৪:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের ঈদ উৎসব \ উচ্চ করোনা সংক্রমণের শঙ্কা ঘুর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রি বিতরণ সাতক্ষীরার বাজার গুলোতে তালের শাঁসের উপস্থিতি \ তপ্ত শরীর তৃপ্তি আর স্বাদে অদ্বিতীয় সাতক্ষীরায় বৈশাখের টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত \ শহর গামী মানুষের দূর্ভোগ চরমে আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ আমার মা আমাদের মা -ইয়াসমিন নাহার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাতক্ষীরা। সৌদি আরবে চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ বৃহস্পতিবার দেবহাটার সুশিলগাতী আম বাগানে মহিলার লাশ সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ মহামারী ও দূর্যোগকালীন সময়ে মানবিক সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশ্বে দাড়ায় আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে জলবায়ূ পরিবর্তন সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কর্মশালা

নৌ দুর্ঘটনার প্রকাশিত আংশিক সুপারিশও ফলোআপ হয় না

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : সোমবার, ৩ মে, ২০২১

জি এম শাহনেওয়াজ ঢাকা থেকে \ লঞ্চ কিংবা নৌপথে চলাচলের ক্ষেত্রে যেকোন নৌযান দূর্ঘটনায় তড়িৎ নামকয়াস্থে একটি করে তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও সবকয়টির রিপোর্ট প্রকাশ পায় না। যেটির রিপোর্ট আলোরমুখ দেখে সেটিতে শুধুমাত্র সুপারিশের মধ্যে তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ থাকে বলেও অভিযোগ আছে। ফলে কি কারণে দূর্ঘটনা ঘটল সাধারণ মানুষের সঙ্গে কর্তৃপক্ষও জানতে পারে না। এমনকি কমিটির পক্ষ থেকে করা সুপারিশের পুর্নমূল্যায়ন না হওয়ার কারণে অপরাধীদের শাস্তি হয় না। এ কারণে নৌযান মালিক ও চালকরা সর্তক ও সচেতন হন না। এর ফলে অসর্তকতা থেকেই নিয়মিত নৌপথে দূর্ঘটনা ঘটছে। নৌযান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বছরের বিশ জুন এমভি ময়ুর-২ এর আঘাতে রার্নিং বার্ড সদরঘাটে ডুবে যায়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি হলেও গত দশমাসে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়টি বলে নৌপরিবহন অধিদপ্তর সৃত্রে জানা গেছে। এমনকি স¤প্রতি শীতল²ায় লঞ্চ দৃর্ঘটনায় ৩৪জন নিহত হওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট লালফিতায় বন্দি। নারায়ণগঞ্জ শহরের বিআইডব্লউিটিএ টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চ এমএল সাবিত আল হাসানকে শহরের কয়লাঘাট এলাকায় র্কাগো জাহাজ এসকেএল-৩ বেপরোয়াভাবে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে এটি ডুবে যায়। এই দূর্ঘটনার রেশ না কাটতেই গতকাল পদ্মানদীতে বাল্কহেডের সঙ্গে স্পিডবোটের সংঘর্ষে ২৬জনের প্রাণহানীর ঘটনা ঘটেছে। নৌ-পুলিশের কাঁঠালবাড়ি ঘাট ইন-চার্জ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিমুলিয়া থেকে একটি স্পিডবোট যাত্রীদের নিয়ে আসার সময় কাঁঠালবাড়ী ঘাটের কাছে নোঙর করা বালু বোঝাই বাল্কহেডের (ছোট আকারের মালবাহী জাহাজ) সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। বাল্কহেডটি থামানো ছিল। স্পিডবোটটি গিয়েই সেটার সঙ্গে ধাক্কা খেয়েছে। এই ঘটনায় ছয় সদস্েযর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অথচ করোনাকালিন এই দুর্যোগের মধ্যে সব ধরনের যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকার কথা নৌযান বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যেকোনো ঘটনা দুটি নৌযানের মধ্যে সংঘর্ষেব্ল ঘটে। তদন্ত কমিটির কাজ দূটির কাগজপত্র পরীক্ষা করা। যেটি আরেকটির ধাক্কায় ডুবে গেল সেটার চালক ও মাষ্টার ঠিক ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হয় না। তদন্ত কমিটির অসঙ্গতিপূর্ণ প্রতিবেদনের কারণে প্রকৃত অপরাধীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে একই ঘটনার পূরনাবৃত্তি বার বার হয়। জানতে চাইলে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর এ জেড এম জালাল উদ্দিন বলেছেন, এসব নৌযানের নিবন্ধন নেই। আইন মান্য করে চলে না। আইনের ব্যত্যয় করে চলেন। এদের সার্ভেলেন্স ও কমপ্লেন্সের অভাব রয়েছে। আর যাত্রীদের ডেসপারেশন আছে। ডিজি শিপিংয়ের ডিজি আরও বলেন, যারা এই ধরনের অন্যায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তাদের শতভাগ বিচারের আওতায় আনা যায় না। ফলে সামগ্রিক ব্যবস্থাসহ সবকিছুই বেপরোয়া হয়ে উঠে। এতে দূর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি হয়েছে। তদন্তের পর মামলা হয়। আর বিচারের পর সাজা হয়। গত বছর পযর্ন্ত ৪৪৮টি মামলা নিষ্পত্তি করে দিয়েছেন আদালত। তাই মামলা হয় না, বিচার হয় না -একপেশে মতামত বিচার করা ঠিক হবে না। ঘটনার বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মনজুরুল কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি কথা বুঝতে পারছে না বলে পরে ফোন করার কথা বলে রেখে দেন। পক্ষ থেকে পুনরায় ফোন করা হলে তিনি রিং বাজাবস্থায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম বলেন, কে কি কোন অবস্থায় এই দূর্ঘটনা ঘটিয়েছেব আপনারা সবই জানেন। দূর্ঘটনার প্রধান কারণ অসর্তকতা পরিচালনা। যারা নৌযান পরিচালনা করছেন তারা সর্তকতার সঙ্গে পরিচালনা করছেন না। এই কারণে দূর্ঘটনাগুলো ঘটছে। পদ্মার দূর্ঘটনাটি রাতের আধারে ঘটেনি ; ঘটেছে দিনের বেলায়। তাই বলবো এটা অসর্তকতা পরিচালনা ছাড়া কিছুই নয়। সাবেক এই ডিজি আরও বলেন, প্রত্েযকটি একটি ইউনিক ঘটনা। তাই প্রত্েযকটি ঘটনাকে দূর্ঘটনার মতো করে বিবেচনা করা দরকার। পদ্মায় স্প্রিডবোটের দূর্ঘটনায় এতো প্রাণহানীতে তাদের লাইফ জ্যাকেট পরা ছিল কি না সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা উচিত। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মীর তারেক আলী বলেছেন, পদ্মায় স্প্রিডবোটের যে দূর্ঘটনা এতো বড় মাপের দূর্ঘটনা এর আগে ঘটেনি। অতীতে দূর্ঘটনায় দুই-একজন নিহত হলেও এবার ছাব্বিশ জন মারা গেছেন। আমাদের দেশের নৌপথে চলাচল করা নৌযানগুলো একটা আইনের আওতায় (ইনল্যান্ড শিপিং অডিন্যান্স-১৯৭৬) চললেও ; এর কিছু সমস্যা আছে। এই স্পিডবোটগুলো এই আইনের আওতাভুক্ত নেই। বলা নেই -এতে কতজন যাত্রী উঠবে, এর ডিজাইন কি হবে, এটার কাঠামোর কি অবস্থা এবং এটার চালকের লাইসেন্স কি ধরনের থাকতে হবে -এ ধরণের কিছুই বলা নেই। তিনি বলেন, পদ্মায় যে স্পিডবোট চলে স্ট্যান্ডেড অনুযায়ী দশ-বার জন যাত্রী নেয়া যায়। কিন্তু তারা গাদাগাদি করে সর্বোচ্চ যতজন নেয়া যায় নিচ্ছেন। কিন্তু এগুলো দেখার দায়িত্ব যাদের তারা ঠিকভাবে দেখভাল করছে না। এমনকি বোট যারা চালাচ্ছেন তারা প্রশিক্ষিত কি না এবং তাদের রিকোয়ারমেন্ট কি সেইগুলোও দেখার কেউ নেই। বুয়েটের এই নৌযান বিশেষজ্ঞ বলেন, লঞ্চ ও ট্রলার থেকে শুরু করে আমাদের নৌপথে বিভিন্ন ধরণের নৌযান চলাচল করে। কিন্তু লঞ্চ দূর্ঘটনা নিয়েই সরব হয় উঠি। আন্যান্য নৌযানগুলো নকশা অনুযায়ী চলছে কি না তা খতিয়ে দেখার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটলে সেখানে তদন্ত কমিটি হয়। গত ত্রিশ থেকে চলি­শ বছরে চারশ থেকে পাঁচশ তদন্ত কমিটি হয়েছে। অনেকে রিপোর্ট দিয়েছেন অনেকেই দেয়নি। যে কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে তার প্রত্েযকটির নিচে সুপারিশ থাকে। সুপারিশগুলো যদি সঠিক সময়ে ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারতাম তাহলে দূর্ঘটনার মাত্রা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব ছিল। এছাড়া সুপারিশের ফলোআপ বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা দরকার বলেও অভিমত দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। এদিকে নৌমন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার পোস্তগোলা সংলগ্ন এলাকায় মর্নিং বার্ড নামে একটি লঞ্চডুবির ঘটনার পর বাংলাদেশে নৌপথে নিরাপত্তা দুর্ঘটনার বিষয়টি আবারো সামনে চলে আসে। সেই লঞ্চ দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হন। নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম বিভিন্ন ধরণের নৌযান। অন্য যোগাযোগ মাধ্যমের তুলনায় নিরাপদ এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী হওয়ায় দেশের যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের একটি বড় অংশ এখনো নৌপথেই হয়ে থাকে। যান চালনায় নিয়ম না মানা এবং অদক্ষ শ্রমিকদের দিয়ে লঞ্চ বা ফেরি পরিচালনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্য পরিবহনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এবং যান্ত্রিক ত্রুটি এমন নানা কারণে নৌপথে বড় বড় দুর্ঘটনাও ঘটে। বেসরকারি সংস্থা কোস্ট বিডির গবেষণা অনুযায়ী, গত ২০ বছরে বাংলাদেশের নৌপথে বড় ১২টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, এতে দেড় হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। প্রাণহানির হিসাবে দেশের নৌপথে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটে। নৌযান কর্তৃপক্ষ, নৌনিরাপত্তা এবং যাত্রী পরিবহন নিয়ে কাজ করেন এমন সংস্থার তথ্যমতে, ২০১৪ সালের ৪ অগাস্ট আড়াইশো’র বেশি যাত্রী নিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যায় পিনাক-৬ নামের একটি লঞ্চ।বাংলাদেশের নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, ওই লঞ্চটি তোলা সম্ভব হয়নি, এবং এর ধ্বংসাবশেষও কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে ৪৯ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছিল, আর ৫০ জন যাত্রীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২০০৩ সালের ৮ জুলাই ঢাকা থেকে ভোলার লালমোহনগামী এমভি নাসরিন-১ নামের লঞ্চটি চাঁদপুরের মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর মোহনায় ডুবে যায়। অতিরিক্ত যাত্রী ও মালবোঝাইয়ের কারণে লঞ্চটির তলা ফেটে গিয়েছিল। তবে ওই দুর্ঘটনায় সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে ছয়শো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০০২ সালের ৩ মে চাঁদপুরের ষাটনল সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ডুবে যায় সালাহউদ্দিন-২ নামের যাত্রীবাহী লঞ্চ। ওই দুর্ঘটনার পর নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের করা একটি তদন্ত কমিটি নকশামতো লঞ্চ নির্মাণ না করায় মালিককে এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহনের জন্য মাস্টারকে অভিযুক্ত করে। এতে ওই লঞ্চের মালিককে জরিমানা এবং মাস্টারকে চাকরীচ্যুত করা হলেও অন্যদের শাস্তি হয়নি। ২০০০ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঈদুল আজহার রাতে চাঁদপুরের মতলব উপজেলার ষাটনল এলাকায় মেঘনা নদীতে এমভি জলকপোত এবং এমভি রাজহংসী নামের দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে রাজহংসী লঞ্চটি পানিতে তলিয়ে যায়, সে সময় ওই লঞ্চের ১৬২ জন যাত্রী নিহত হয়েছিলেন। ১৯৮৬ সালে অ্যাটলাস স্টার নামে একটি লঞ্চ ডুবে ২০০ জন যাত্রী মারা গিয়েছিলেন। লঞ্চটি ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে ডুবে গিয়েছিল। ২০০৫ সালে একটি ফেরী ডুবে গিয়ে ১১৮জন যাত্রী নিহত হন, এবং ২০০৫ সালে এমএল মিতালি ও এমএল মজলিশ নামে দুইটি ছোট লঞ্চের মুখোমুখি সংঘর্ষের পর ডুবে গিয়ে প্রায় ৩০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ডিজি বলেন, ১৯৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত নৌদুর্ঘটনার জন্য দেশে পাঁচশো’র বেশি মামলা চলছে। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র একটি মামলার বিচার হবার নজির রয়েছে। সর্বশেষ গতকাল পদ্মায় স্প্রিডবোট দূর্ঘটনায় ছাব্বিশ জনের মৃত্যুতে ফের আলোচনায় উঠেছে নৌপথ।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41