1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের ঈদ উৎসব \ উচ্চ করোনা সংক্রমণের শঙ্কা ঘুর্ণিঝড় আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে খাদ্য সামগ্রি বিতরণ সাতক্ষীরার বাজার গুলোতে তালের শাঁসের উপস্থিতি \ তপ্ত শরীর তৃপ্তি আর স্বাদে অদ্বিতীয় সাতক্ষীরায় বৈশাখের টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত \ শহর গামী মানুষের দূর্ভোগ চরমে আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল ঈদ আমার মা আমাদের মা -ইয়াসমিন নাহার, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাতক্ষীরা। সৌদি আরবে চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ বৃহস্পতিবার দেবহাটার সুশিলগাতী আম বাগানে মহিলার লাশ সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ মহামারী ও দূর্যোগকালীন সময়ে মানবিক সহায়তা নিয়ে মানুষের পাশ্বে দাড়ায় আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে জলবায়ূ পরিবর্তন সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধ ও নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক কর্মশালা

আম নিয়ে বিপাকে সাতক্ষীরার আম চাষিরা \ দাম নিয়ে শঙ্কা

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : সোমবার, ৩ মে, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার \ আম নিয়ে বিপাকে সাতক্ষীরার আম চাষিরা। ক্রেতার অভাবে আম অবিক্রিত থেকে যাচ্ছে। ‘বাইরে থেকে যারা আম কিনতে সাতক্ষীরায় আসবেন, তাদের কমপক্ষে তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে এমন অবস্থায় বাইরে থেকে আসা আম ক্রেতা জেলার বাজারে খুবই সীমিত। ফলে চাষিদের অভিযোগ, আমের যে দাম পাচ্ছেন তাতে খরচ উঠছে না। এদিকে গত দু’বছর বিদেশে আম রপ্তানি বন্ধ থাকায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে এ জেলার আম শিল্প। এছাড়া কাঁচা ও পাঁকা আমের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত না করে বিদেশ থেকে আম জাত পণ্য আমদানি করায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখে দেশীয় আম শিল্প। বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন, বিশেষত ভারতের ফারাক্কা বাঁধের অভিশপ্ত প্রভাবে গ্রীষ্মকালে ৪০-৪২ ডিগ্রি তাপমাত্রা এবং শীতকালে ৪-৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ৩৭% উর্বর জমি মরুভূমিতে পতিত হচ্ছে। তেমনি নতুন নতুন রোগ ব্যাধি দেখা দিয়েছে আমের ফলনে। ফলে বহুমুখি উপযোগিতা হারাচ্ছে তেমনি স্বাভাবিকভাবে আমের উৎপাদনও কমে আসছে। জেলার সবুজ প্রকৃৃতির মাঝে আমের সুনাম ধরে রাখতে প্রশাসন ও কৃষি খামার বাড়ির পক্ষ থেকে আম চাষিদের নিয়মিত তদারকি ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এক সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে যে, বিদেশ থেকে বৈধভাবে যে পরিমাণ ফল আমদানি করা হয়, রপ্তানি করা হয় তার ৬২ ভাগের ১ ভাগ। বাংলাদেশে প্রতি বছর ২৭,৪৬৬ হেক্টর জমি থেকে ৮,৮৯,১৭৬ মেট্রিক টন আম উৎপাদন হয় (বিবিএস, ২০১২)। বর্তমানে আমের উৎপান প্রায় দ্বিগুণ। বিশ্বের প্রধান দশটি আম উৎপাদনকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশ সপ্তম এবং আগাম জাতের আম উৎপাদনে সাতক্ষীরা জেলা প্রথম। আম আমাদের দেশে মৌসুমি অর্থকরী ফল হিসেবে গুরুত্ব পেলেও একে শিল্পজাত পণ্য হিসেবে প্রক্রিয়াজাতকরণের কার্যকর গবেষণা অদ্যাবধি না নেয়ায় হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে আম চাষ। তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ অধিক জনসংখ্যার ভারে আক্রান্ত। সাধারণ জনগণের অপুষ্টি দূরীকরণে, বেকারত্ব দূরীকরণ তথা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আম শিল্পের বিকাশ পুরোপুরি ঘটিয়ে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে নার্সারি পর্যায়ে আম চারা উৎপাদন একটি ব্যবসা, কৃষক পর্যায়ে আম চাষ লাভজনক কৃষি পণ্য, ব্যবসায়ী পর্যায়ে মৌসুমি ব্যবসা হিসেবে বিবেচিত হলেও আমকে শিল্পের পর্যায়ে ভাবা হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে যে পরিমাণ কোমল পানীয়, বিদেশি জুস, জ্যাম, জেলি ইত্যাদি আমদানি করা হয়; আমকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে তা পণ্যে রূপান্তর করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনও সম্ভব। বিশেজ্ঞরা বলছে যদি দেশে এ জাতীয় পণ্য আমদানি করতে না হয় তাহলে তো দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা দেশেই থাকতো; তদুপরি বিদেশে রপ্তানি করতে পারলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ফলে দেশের আর্থসামাজিক পরিবর্তন ঘটতো। ফল বিশেজ্ঞরা বলছে, অর্থনৈতিক দিক থেকে আমের অবদান কোনো অংশে কম নয়, আন্তর্জাতিক মানের এই ফলটি শুধু পুষ্টি ও স্বাদের জন্যই বিখ্যাত নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে। সাতক্ষীরায় প্রশাসনের বেঁধে দেয়া সময় শেষে ১ মে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ আম পাড়া। চাষিরা বলছেন, উৎপাদন ভালো হলেও দামে সন্তুষ্ট নন তারা। এছাড়া আম চাষিদের সুবিধার্থে ২১ মে আ¤্র্রপালি ও এরপর অন্যান্য আম পাড়া যাবে।’ জেলায় এবার পাঁচ হাজারেরও বেশি বাগানে আম চাষ হয়েছে। এসব বাগানে চাষি রয়েছেন ১৩ হাজার ১০০ জন। চলতি বছরে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ সূত্র জানান, জেলার সাতটি উপজেলায় চলতি বছর চার হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১৯৫ হেক্টর জমিতে, কলারোয়া উপজেলায় ৬০২ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৭০৫ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৩৬৮ হেক্টর কালিগঞ্জ উপজেলায় ৮০৫ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ১২৫ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদরে আমের বাগান রয়েছে ১৫৩০টি, কলারোয়ায় ১৩১০টি, তালায় ১৪৫০টি, দেবহাটায় ৪৭৫টি, কালিগঞ্জে ১৪২টি, আশাশুনিতে ১৯০টি ও শ্যামনগর উপজেলায় ১৫০টি আমের বাগান রয়েছে। সাতক্ষীরার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের অনুকূল হওয়ায় অন্য অঞ্চলে উৎপাদিত আমের চেয়ে সাতক্ষীরার আম বাজারে উঠতে থাকে সবার আগে। সোমবার ৩ মে সাতক্ষীরা জেলার আমের বড় মোকাম সুলতানপুর বড়বাজার ঘুরে আমের বেঁচাকেনা দেখা গেল চোখে পড়ার মত। আলিপুরের এক আম চাষি মামুন জানালেন, অন্যবার পাইকারী ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি যেয়ে আম কিনে নেয়। এবার কেউ আম কিনতে চাচ্ছে না। তাই বাজারে নিয়ে আসলাম। তবে এখন পর্যন্ত দাম ভাল। ১৫শ থেকে ২২শ টাকা পর্যন্ত মণ প্রতি গোপালভোগ আম বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ আড়তদারদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে ব্যবসা করার কারণে বাগানের সমস্ত আম উঠার পর আড়তদারদের কাছে সেই আম বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়। ফলে সিন্ডিকেটের কবলে পড়তে হয় জেলার গোটা আম ব্যবসায়ীদের। একটি আম উৎপাদন থেকে চুড়ান্ত ভোগ পর্যন্ত কয়েকবার হাত বদল হয়। এতে আমের দাম কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। শুধু আড়তে আম উঠানোর করণে আড়তদারদের শতকরা আট থেকে দশ টাকা হারে খরচ দিতে হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, সাতক্ষীরায় যে আমের মণ ২ হাজার টাকা ঢাকায় তা বেড়ে দাড়ায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। আবার জেলার গ্রাম পর্যায়ে আমের মণ ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা জেলার পাইকারী বাজারে তা ২ হাজার থেকে ২২ শত টাকা। ফলে প্রকৃত চাষীরা আমের ন্যয্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। বড়বাজার কাঁচা-পাকা মাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাবু বলেন, ‘সরকারি বিধি পালনের কিছুটা দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। আমরা পরিষ্কার ঘোষণা করেছি, গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ আম ছাড়া অন্য কোনো আম যদি কেউ নিয়ে আসে, তবে আমরা সে আম খরিদ করবো না। এছাড়া কেমিক্যাল দিয়ে আম পাকানোর বিষয়েও তারা সতর্ক রয়েছে। সাতক্ষীরা কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নূরুল ইসলাম বলেন, ‘বাইরে থেকে যারা আম কিনতে আসবেন, তাদের কমপক্ষে তিন দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। এছাড়া আমচাষিদের সুবিধার্থে ২১ মে আম্রপালি ও এরপর অন্যান্য আম পাড়া যাবে।’ তিনি জানান, জেলায় এবার পাঁচ হাজারেরও বেশি বাগানে আম চাষ হয়েছে। চাষিদের বিভিন্ন বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41