1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৪:৩০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিবছরই নেয়া হয় বিভিন্ন প্রকল্প \ থামছে না নদী ভাঙন \ নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ আজ ঢালাইয়ের মাধ্যমে দৃশ্যমান হচ্ছে সাতক্ষীরার দুই আদালতের যাতায়াত সড়ক \ সর্বশেষ প্রস্তুতি প্রত্যক্ষ করলেন সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান ষড়যন্ত্রের কবলে পাট \ বাড়তি দাম পাওয়ার পরও চাষে আগ্রহ কম \ আবাদ কমলেও পাট পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বিদায়ী জেলা প্রশাসককে সংবর্ধণা প্রদান কালিগঞ্জের তারালী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ২ নির্বাচনী সহিংসতায় ২ মৃত্যু: প্রার্থীদের উপরেই দায় চাপালো ইসি শ্রীপুর কুড়িকাহুনিয়ার ভাঙ্গন পয়েন্ট আটকানো গেলেও \ অন্য দুটি পয়েন্টে জোয়ার ভাটায় নিমজ্জিত প্রতাপনগর বিদ্যালয় গুলোর ব্যবস্থাপনা প্রতিবন্ধী বান্ধব হতে হবে ঃ জেলা প্রাথঃ শিক্ষা অফিসার বেজা’র চেয়ারম্যান পদে সাবেক সচিব ইউসুফ হারুন বুধহাটায় সড়কের উপর পড়ে থাকা বটবৃক্ষ ৩ দিনেও সরানো হয়নি

মানুষের ঈদ উৎসব \ উচ্চ করোনা সংক্রমণের শঙ্কা

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১

জি এম শাহনেওয়াজ ঢাকা থেকে \ সরকারের সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে ঈদ পরবর্তী করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণের শঙ্কা করছেন দেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, গণপরিবহন ও রেল সার্ভিস ছাড়াই সবকিছুই চলছে স্বাভাবিক নিয়মে। ফলে ঈদ উদযাপনে কেউ কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আবার পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে সড়ক-মহাসড়কে জনতার ঢল নেমেছে। কেউ বিমানে, কেউ বা ব্যক্তিগত গাড়িতে, আবার কেউ ভাড়ায় গাড়ি চড়ে নাড়ির টানে বাড়িতে ছুটেছেন। স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে ঈদ কেনাকাটা এবং ঘরমুখো মানুষের জোয়ার মিলে এই ভয়কে বড় করে তুলছে। এর মধ্যে দেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের প্রবেশ সেই শঙ্কাকে আরও বহুহগুন বাড়িয়ে দিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক নিজেও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংক্রমণ ছড়াতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, দেশে করোনার সর্বাধিক সংক্রমণ ছিল গত মার্চ-এপ্রিল মাসে। ফেব্র“য়ারিতে করোনা সংক্রমণের হার দুই শতাংশে নেমে আসলেও মার্চে তা দাঁড়ায় ২৫ শতাংশের কাছাকাছি। এযাবৎ কালের সর্বাধিক সংক্রমণের হার ছিল গত আগস্টে ৩১ দশমিক ৯১ শতাংশ। গত ১৯ এপ্রিল ছিল সর্বোচ্চ মৃত্যু ১১২ জন। সেসময় হাসপাতালে চাপ পড়েছিল উলে­খযোগ্য হারে। ঢাকার প্রায় সব সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে বেড ও আইসিইউ ছিল পূর্ণ। সেটি আবার স্বাভাবিক হওয়া শুরু করে এপ্রিলের শেষে। সংক্রমণের হার বর্তমানে ১০ শতাংশের নিচে। গতকাল সর্বনি¤œ মৃত্যু হয়েছে ৩৩ জন। তবে, শপিংমল ও ঈদ উপলক্ষ্যে মানুষের বাড়ি ফেরার তাড়াতে উচ্চ সংক্রমণের আশঙ্কার কথা উলে­খ করেছেন দেশের জনস্বাস্থ্যবিদরাও। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. লেলিন চৌধুরী বলেছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যে জন চলাচল, কেনাটাকার বিষয়টি কেমন হবে -এ বিষয়টি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিতভাবে ভেবে কোনো পরিকল্পনা করিনি। করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে যে সুসমন্বিত পরিকল্পনা দরকার ছিল সেটা সরকারের পক্ষ থেকে ছিল না। এর কারণ হচ্ছে, -মানুষজনকে যদি বাইরে যেতে দেওয়া না হতো; সরকার সেটিই করতো। আবার যেতে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে সেটি স্বাস্থ্য সম্মতভাবে করতে পারতো। কিন্তু এর কোনটিই করেনি। তিনি বলেন, কিছু লোক গেলো কিছু লোক গেলো না। যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি আছে, যারা প্রাইভেটকার ভাড়া করতে পারে এবং যাদের বিমানে যাওয়ার সুযোগ আছে তারা যেতে পারলো। আবার গণপরিবহন নেই। ফলে লোকজন কথা শুনলো না; বেরিয়ে গেলো। ফলে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হলো গাদাগাদি ও জমায়েত করে বাড়িতে চলে গেলো। এই কারণে ঈদ পরবর্তী করোনা পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট চোখ রাঙাচ্ছে। এটি যদি ছড়িয়ে পড়ে তাহলে পরিস্থিতি দ্বিতীয় ঢেউয়ের চেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, আশঙ্কা হচ্ছে, – হাসপাতালে সিট পাওয়া যাবে না। অক্সিজেন সংকট দেখা দিবে। প্রাণহানীর শঙ্কা বাড়বে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বেনজীর আহমেদ বলেছেন, ঈদ পরবর্তী আমাদের জন্য কি ধরণের ঝুঁকি অপেক্ষা করছে সেটাই এখন মূল আলোচ্য বিষয়। বিধিনিষিধের সুফলের কারণে এখন হয়তো অনেক বেশি সংক্রমণ দেখা যাবে না। কিন্তু এটার ঝুঁকি তৈরি করবে সামনের দিনগুলোতে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার। তারপর যদি লকডাউন উঠিয়ে দেওয়া হয় তাহলে আমরা একটা ঊর্ধ্বগতি দেখবো। এর সঙ্গে যদি আবার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট যুক্ত হয় তাহলে মনে হয় আমাদের জন্য সমস্যা হয়ে যাবে। কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বলেছেন, দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। তবে তৃতীয় ঢেউয়ের শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। ঈদ যাত্রায় মানুষের যে গ্রামে যাওয়ার যে হিড়িক এতে আমার কাছে মনে হয় সংক্রমণ একটু বাড়বে। এখন সাস্থ্যবিধি না মানার কারণে যে ক্ষতি তা হবে আমাদের। সেটা আমরা ১৫ দিন পর দেখতে পারবো। তিনি আরও বলেন, মানুষের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতি আমরা ইচ্ছা করলে ঠেকাতে পারতাম। আমরা যদি সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারতাম তাহলে হতো। মানুষ প্রতিবারই ঈদে বাড়ি যায়। সেটি কি বন্ধ করা যাবে? শুধু মুখে বাড়ি যেতে নিষেধ করলেই কি মানুষ শুনবে? এরকম হয় না। বাস বন্ধ করে দিলে মানুষ বাড়ি যাবে না এমন চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিলে দেখা যাচ্ছে অন্য ব্যবস্থায় মানুষ বাড়ি যাচ্ছে। উদ্দেশ্য যদি করোনা ঠেকানো হয় তাহলে বাস বন্ধ করার কি দরকার ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চালানো গেল না? সব করা যায় কিন্তু বাসের স্বাস্থ্যবিধি চালু করা যায় না? কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা এর জন্য দায়ী বলেও জানান তিনি।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41