1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
চালের উৎপাদন বাড়লেও ভোক্তা পর্যায়ে কমছে না দাম রেকর্ড গড়া জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের সাতক্ষীরায় কঠোর লকডাউনে চিকিৎসাধীন মৃত্যু ৯ \ শনাক্ত ৬১ জন আশাশুনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে ঢাকাস্থ ছাত্র কল্যাণ সমিতির শুভেচ্ছা বিনিময় বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপা অভিযানের প্রস্তুতি নাসার বিজিবি পৃথক অভিযানে সীমান্ত থেকে আটক ৫ শ্যামনগর বুড়িগোয়ালীনীতে রাস্তার বেহাল দশা পরিদর্শনে উপজেলা চেয়ারম্যান দোলন নূরনগরে বেশি দামে সার বিক্রি করার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা খাজরায় মূর্তি চুরির ঘটনায় মন্দির পরিদর্শন করলেন সহকারি পুলিশ সুপার জামিল আহমেদ চামড়া শিল্পের দুরবস্থা নিরসন জরুরী

ষড়যন্ত্রের কবলে পাট \ বাড়তি দাম পাওয়ার পরও চাষে আগ্রহ কম \ আবাদ কমলেও পাট পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : সোমবার, ২১ জুন, ২০২১

স্টাফ রিপোর্টার \ সোনালি আঁশ খ্যাত পাটের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। পাটের সোনালি অতীত এখন কেবলই ইতিহাস। এরপরও পুরোনো ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন পাট চাষিরা। দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ রপ্তানি আয়ের এই খাত এখন পাট সংকটে ধুঁকছে। ইতিমধ্যে কাঁচা পাটের অভাবে ৫০টি পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে। সা¤প্রতিক সময়ে বাড়তি দামের কারণে লাভ হওয়ার পরও পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক। আর এর পেছনে অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পাট পচানোর জন্য প্রয়োজনীয় পানির অভাব এবং পাটের দামে মজুদদারদের কারসাজির কারণে লোকশানের শঙ্কা। এছাড়া পাট বীজ আমদানি নির্ভর হওয়ায় প্রতি বছরই ঝুঁকিতে থাকে উৎপাদন কার্যক্রম। এর পরও চলতি মৌসুমে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে পাট চাষ করে চলেছে গ্রামের সাধারণ কৃষক। রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সবুজ পাটকে রূপান্তরিত করেন সোনালি বর্ণে। এরপরও বিক্রি করতে গিয়ে পড়েন দুর্বিপাকে। চলতি মৌসুমে ৮৭ লাখ বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশে সোয়া ৭ লাখ হেক্টর জমিতে এ রপ্তানীজাত কৃষি পণ্যের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলায় ২ লাখ ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে পরিচর্যা। কৃষি মন্ত্রনালয়ের মতে, দেশে পাট চাষির সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ হলেও এ খাতের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। আর জিডিপি’তে পাটের অবদান ০.২৬% হলেও কৃষি সেক্টরে এর একক অবদান ১.১৪%। চলতি মৌসুমে দেশে সাড়ে ৭ লাখ হেক্টরে ৮৬ লাখ ১০ হাজার বেল পাট উৎপাদনের লক্ষ্য স্থির করা হলেও আবাদ হযেছে প্রায় ৭ লাখ ২৫ হাজার হেক্টরে। ফলে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। কৃষি স¤প্রসারন অধিপ্তর-ডিএই’র মতে, আবাদ লক্ষ্য শতভাগ অর্জিত না হলেও বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে উৎপাদন লক্ষ্যে পৌছতে পারবেন কৃষি যোদ্ধাগন। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মতে, পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে দেশ প্রতিবছর আয় করছে প্রায় ৯০ থেকে ১শ কোটি ডলার। গত অর্থ বছর এখাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৮% বেশী। এ আয়ের সিংহভাগই এসেছে পাটসুতা থেকে। কাঁচাপাট রপ্তানিতে আয় ১ কোটি ডলার, যা মোট পাটজাত পন্যের ১৫%। পাটের বস্তা ও চট রপ্তানি করেও আয় হচ্ছে ১০ কোটি ডলারের মত। এছাড়া বিভিন্ন পাটজাত পণ্য রপ্তানিতেও আয় প্রায় ২০ কোটি ডলার। গত দুই বছর ধরে বাজারে কাঁচা পাটের দাম বেশ ভালো যাচ্ছে। কিন্তু এরপরও পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। পাটচাষি ও কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাট চাষে আগ্রহ কমার অন্যতম একটি কারণ পাট পচানোর জন্য পানির অভাব। এছাড়া প্রতি বছর পাটের দামের অস্বাভাবিক ওঠা-নামার কারণে অনেক সময় কৃষকদের লোকসানের কবলে পড়তে হয়। তাই কৃষকরা এখন পাটের বদলে অন্য যেকোনো দুই ফসল ফলানোর দিকে মনোযোগী হচ্ছেন। সূত্র বলছে বাংলাদেশের পাট বীজের প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। আর এর পুরোটাই আসে ভারত থেকে। পাট খাতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী ভারত। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, পাট মৌসুম এলেই তাদের বীজ নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হয়। এছাড়া বীজের মান নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে। সময়মতো বীজ সরবরাহ নিয়ে অধিদপ্তরের একটি বিভাগের নিয়মিত কাজ করতে হয়। বাংলাদেশ যে বীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে সেই সুযোগও কম। যদিও আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পাট বীজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের প্রকল্প গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট। এদিকে পাটের অস্বাভাবিক দাম ও সরবরাহ সংকটে চরম বিপাকে পড়েছে পাটকল মালিকরা। ইতিমধ্যে পাটের অভাবে প্রায় অর্ধশত কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়ার পথে আরও কিছু কারখানা। পাটপণ্য রপ্তানিকারকরা বলছেন, পাটে এমন অস্থিরতা চললে আগামীতে মুখ থুবড়ে পড়বে এ খাতের রপ্তানি আয়। তখন আন্তর্জাতিক বাজার চলে যাবে প্রতিবেশীদের দখলে। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ছয় জেলা যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে চলতি মৌসুমে এক লাখ ৬৫ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় গতবছরের চেয়ে এবছর সাতক্ষীরা জেলায় ৮৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ কম হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে জেলাটিতে পাটের আবাদ হ্রাস অব্যাহত আছে। চলতি ২০২১-২২ মৌসুমে জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে। যেখানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার একশ বেল। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসানুজ্জামান বলেছেন, পাটের আবাদ বৃদ্ধর লক্ষ্যে আসছে অর্থবছরে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ৬৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে এবং কৃষকদের সহয়তায় সব ধরণের সহযোগিতা করা হবে।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41