1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

কালিগঞ্জে মথুরেশপুর ইউপির উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম (১) \ কাজ কাগজে কলমে বাস্তবে নেই

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১

আহম্মাদ উল্যাহ বাচ্ছু কালিগঞ্জ থেকে ঃ কালিগঞ্জ উপজেলায় মথুরেশপুর ইউনিয়নে সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইনের বিরুদ্ধে। ঐ ইউনিয়নে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি), বিদেশি অর্থায়নে বাস্তবায়িত লোকাল গভর্নেন্স সাপোর্ট প্রজেক্টের (এলজিএসপি), গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণা বেক্ষণ (টিআর) এবং কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) সহ বিভিন্ন প্রকল্প কাগজে কলমে আছে বাস্তবে নেই! এ ব্যাপারে গত ১ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাকিম। লিখিত অভিযোগ থেকে জানাগেছে, সরকার উন্নয়নের জন্য উপজেলায় বিভিন্ন প্রকল্প বরাদ্ধ দিয়েছে। কাগজ-কলমে সবই ঠিক আছে। সময়মত প্রকল্পের টাকাও উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ বাস্তবে হয়নি। অথচ এসব প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করে পকেটস্থ করেছেন খোদ ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর থেকে পাওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের নথিপত্র খতিয়ে দেখে সরেজমিনে গেলে এসব অভিযোগের সত্যতা মেলে। ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড দেখা গেছে, কাগজে কলমে প্রকল্প থাকলেও বেশ কিছু প্রকল্পে কোন কাজ হয়নি। প্রকল্পগুলোর মধ্যে আছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এলজিএসপির বরাদ্দে বসন্তপুর গ্রামের হবি মোল­া বাড়ির মুখ হইতে সাইফুল মেম্বারের বাড়ির অভিমুখে পানি নিষ্কাশনের আউট ড্রেন নির্মাণ। হাড়দ্দাহ কলগেট হইতে ঘূর্ণিঝড়ে আয়লার পানি প্লাবন হইতে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাটির রাস্তা নির্মাণ। এই দুইটি প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৪ লাখ টাকা। তবে ড্রেন নির্মাণ কাজ মোটেও করা হয়নি এবং মাটির রাস্তা দরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন কর্মসূচি (৪০ দিনের) শ্রমিক দিয়ে কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। ২০১৯-২০ অর্থবছর এলজিএসপির আওতায় বসন্তপুর গ্রামের পোট প্রাইমারী স্কুলের সামনে হইতে মুনছুর গাজীর বাড়ি পর্যন্ত ইটের রাস্তা নির্মাণ (পার্ক রাস্তা) ৬০ হাজার টাকা প্রকল্পে বরাদ্দ থাকলেও কোন কাজ হয়নি। এদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বসন্তপুর বাবু মেম্বরের বাড়ির সামনে পানি জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ এবং বসন্তপুর কালার বাড়ির সামনে পানি জলাবদ্ধতা নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প দুটির বরাদ্দ ছিল ৪ লাখ টাকা। কিন্তু এসব প্রকল্প দায়সারা ভাবে কাজ হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসি। ২০১৮-১৯ অর্থবছর টিআর আওতায় ৫০ হাজার ১‘শ টাকা বরাদ্দে বসন্তপুর বাইতুল মামুর জামে মসজিদ সংস্কার করা হয়নি। ২০১৯-২০ অর্থবছর কাবিটা’র আওতায় গনপতি কালী বাড়ি মন্দির উন্নয়নে ৪৫ হাজার বরাদ্দের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয় হলো এই গ্রামে কোন কালী মন্দিরের কোন অস্তিত্ব নেই। ২০১৭-১৮ অর্থবছর এডিপি‘র অধীনে মথুরেশপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর আজিজুলের বাড়ীর সামনে হতে সামছুলের বাড়ীর কালভার্ট অভিমুখে ড্রেন নির্মাণে দেড় লাখ টাকা দরপত্র দেখিয়ে প্রকল্প গ্রহন করা হয়। কিন্তু প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হয়নি। অর্থবছরে রাজস্ব খাতের আওতায় বসন্তপুর মন্দির সংস্কার প্রকল্পে ২ লাখ টাকার কাজের কোন খবর রাখে না মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ। এমনিভাবে এলজিএসপি ও এডিপির অধীনে আরো কয়েকটি প্রকল্প একাধিকবার বিভিন্ন বরাদ্দের তালিকায় দেখানো হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে আছে বসন্তপুর সাইদুলের বাড়ির মুখ হইতে করিম মাস্টারের বাড়ির অভিমুখে নতুন ইট সোলিং রাস্তা নির্মাণ (বরাদ্দ), বসন্তপুর গ্রামে মোঃ শওকাত গাজীর বাড়ি হতে মোঃ আব্দুস সবুরের বাড়ি পর্যন্ত পাকারাস্তা নির্মাণ (দরপত্র), মথুরেশপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের হাওলাদার বাড়ির মোড় হতে আল আমিন মাস্টারের বাড়ির অভিমুখে পাকারাস্তা নির্মাণ (দরপত্র), বসন্তপুর সবুরের বাড়ি হতে ওয়াবদা পর্যন্ত রাস্তায় ইট সোলিং (দরপত্র)। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, একই প্রকল্পের নাম বারবার বিভিন্ন প্রকল্পে দেখিয়ে ও প্রকল্প সভাপতির নাম পারিবর্তন করে এসব অর্থ লোপাটের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ সকল দূর্নীতির সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন এলাকার সচেতন মহল। এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান গাইনের কাছে জানতে চাইলে তিনি দৃষ্টিপাতকে জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ করেছে।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41