1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Dailik Drishtipat : Dailik Drishtipat
রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
আজ দেবহাটা কালিগঞ্জের ইউনিয়ন গুলোর নির্বাচন \ ভোট হোক উৎসবের, উচ্ছ¡াসের ভোমরা স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন ও ব্যবসার উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা গ্রহন করা হবে -বীর মুক্তিযোদ্ধা এমপি রবি সাতক্ষীরা সরকারী কলেজে বার্ষিক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদ্বোধন পঞ্চম ধাপে ৭০৭ ইউপিতে নির্বাচন ৫ জানুয়ারি রংপুরে ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল ৪ ভ্যান আরোহীর নস্টালজিক দেবহাটা কালিগঞ্জ ইউপি নির্বাচন \ সখিপুরে পুলিশ সুপারের ব্রিফিং সাতক্ষীরায় কলকাতা এ্যাপোলো হসপিটাল লিমিঃ তথ্য সেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন সাতক্ষীরা আয়েনউদ্দিন মহিলা মাদ্রাসার সভাপতি ডা: আবুল কালাম বাবলা বন্যতলার ভাঙ্গন বাঁধ আটকানো সম্পন্ন \ প্রতাপনগর পানি মুক্ত

যশোর কেশবপুরে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

দৃষ্টিপাত ডেস্ক :
  • Update Time : মঙ্গলবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২১

মোঃ মাসুদ রায়হান কেশবপুর প্রতিনিধি ঃ শীতের আগমনের সাথে সাথে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে যশোরের কেশবপুর উপজেলার কাস্তা ভাল­কঘর, মূলগ্রাম, বেলকাটি, সাগড়দাঁড়ী, ফতেপুর, চিংড়া, হাসানপুর, বগা, নেহালপুর ধর্মপুর, আওয়ালগাতি, ভান্ডারখােলা, দেউলি, বাগদাহ, সাবদিয়া, মজিদপুর, মধ্যকুল, ব্রহ্মকাটি, রামচন্দ্রপুর, ব্যাসডাঙ্গা, পাঁজিয়া, গড়ভাঙ্গা, কলাগাছি, গৌরিঘোনা, ভেরচি, মাগুরখালি, মঙ্গলকোট, বড়োঙ্গা, কন্দর্পপুর, পাথরা, কেদারপুরসহ অনেক গ্রামে ঘুরে দেখা গেছে গাছিরা খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন ঠিলে-খুংগি-দড়া- গাছি দাঁ বালিধাসহ ইত্যাদি নিয়ে গাছ কাঁটার কাজে ব্যস্ত রয়েছে। গ্রাম অঞ্চলের গাছিরা গ্রামের পরিত্যাক্ত জায়গা ও আকা-বাকা পথের পাশে ডোবা-পুকুর পাড় সারি সারি অপরিচ্ছিন্ন খেজুর গাছ গুলোর পুরানো ডাল পালা কেটে পরিষ্কারের প্রাথমিক ভাবে করেছে কাজ সম্পন্ন যশোরের কেশবপুর উপজেলার সহ বেশ কয়েকটি উপজেলা ঘুরে সরেজমিনে দেখা গেছে শীতের তীব্রতা দেখা না দিলেও এরই মধ্যে অনেক গাছি খেজুর রস সংগ্রহের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। গ্রামীণ জীবনে শীত এ অঞ্চলের গাছিদের কাছে বিভিন্ন মাত্রায় রূপ নিয়ে আসে। নানা স্বপ্ন আর প্রত্যাশায় তাদের অনেকটা সময় কেটে যায় এই খেজুর গাছের সাথে। সারাদিন এক গাছ থেকে অন্য গাছ এভাবেই তাদের দিন কেটে যায়। গাছির জীবন সংগ্রামে বহু কষ্টের মাঝে অনেক প্রাপ্তিই মিটে যায় গ্রাম বাংলার এই জনপ্রিয় বৃক্ষ খেজুর রস আহরণের সাথে। গাছিদের কাছে এই সময়টা হয় অনেক আনন্দের। গাছ কাটার জন্য গাছের মাথার এক দিকের ডাল কেটে পরিষ্কার করা হয়। আর কাটা অংশের ঠিক মাঝ বরাবর নিচে দুটি ভাজ কাটা হয়। সে ভাজ থেকে কয়েক ইঞ্চি নিচে একটি সরু পথ বের করা হয়। এই সরু পথের নিচে বাঁশের তৈরি নালা বসানো হয়। এই নালা বেয়ে চুয়ে । চুয়ে পাত্রে রস পড়ে। সাধারণত দুপুরে গাছে ভাড় বেঁধে রাখা হয়, সারা রাতে রস পাত্রে পড়তে থাকে। এসময় শালিক, দোয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের পাখিরা গাছে ভিড় করে রস খাওয়ার জন্য। গাছ কাটার পর দুই দিন রস পাওয়া যায়। প্রথম দিনের রস পাটালি গুড় তৈরী হয়, আর দ্বিতীয় দিনের রসে ঝোলা গুড় তৈরী হয়। রসের জন্য খেজুর গাছে একবার কাটার পর পাঁচ-ছয় দিন পর কাটা হয়। গাছের কাটা অংশ শুকানাের জন্য এসময় দেওয়া প্রয়োজন। খেজুর গাছ কাটা অংশ শুকানোর সুবিধার জন্যই সাধারণত পূর্ব ও পশ্চিম দিকে গাছ কাটা হয়। যাতে সূর্যের আলো সরাসরি কাটা অংশে পড়ে। ভোরের হাড় কাপানো ঠান্ডায় গাছ থেকে রসের পাত্র নামিয়ে হিমশীতল খেজুর রস খাওয়ার স্বাদটাই মধুর। ভোর বেলায় রস খেলে শীত মনে হয় আরো বেশি জেকে বসে। শীত লাগে লাগুক তবুও রস খাওয়ার চাই। যতই শীত লাগুক না কেনো রস খেতেই হবে। ভোরে গ্রামের ছেলে-মেয়েরা অপেক্ষায় থাকে কখন গাছ থেকে নামানাে হবে খেজুরের সু-মিষ্টি রস। যশোরের কেশবপুর উপজেলার মিজ্জানগন গ্রামের গাছি মো নূর আলী বিশ্বাস বলেন, খেজুর গাছ প্রায় ছয়/সাত বছর বয়স থেকে রস সংগ্রহ করা যায়, আর পঁচিশ থেকে ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত গাছ থেকে রস পাওয়া যায়। তবে গাছ যতই পুরনাে হয় রস দেয়া ততই কমে যায়। পুরনো গাছ রস কম দিলেও পুরনো গাছের রসগুলো খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদু হয়। মাঝ বয়সের গাছ থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ । রস পাওয়া যায়। বেশি রস সংগ্রহ করা গাছের জন্য অবার অনেক ক্ষতিকর। তবে তারা জানায়, নতুন করে তেমন কেউ গাছির কাজ। করতে আগ্রহী না হওয়ায় অনেক খেজুর গাছ পরিত্যাক্ত থেকে যাচ্ছে। সে জন্য সব গাছ থেকে রস বের করা সম্ভব হচ্ছে না। গাছিরা দিনের বেশির ভাগ সময় কাটান খেজুর গাছে। যেন মাটিতে পা ফেলার ফুসরত নেই। শীত আসা মাত্রই খেজুর গাছ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে তােলার জন্য অনেক আগে থেকেই সকাল-সন্ধ্যায় যেন লেগে থাকে গাছিরা। খেজুর গাছ বিশেষ কায়দায় কাটতে হয়। শীতে খেজুর গাছের রস হতে যে গুড় তৈরি করা হয় তা দিয়ে দুধের পিঠা, পায়েস পুলি পিঠা তৈরি করে খাওয়ার মজা আলাদা। তবে খেজুরের রস দিয়ে তৈরি রসের পিঠা খুবই সুস্বাদু হয়ে থাকে। আর খেজুর গুড়ের সন্দেশের স্বাদ হয় অপূর্ব। বলতে গেলে একবার খেলে স্বাদ সারাজীবন যেন মুখে লেগে থাকে। গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য সাধারণত মাটির হাড়ী ব্যবহার করা হয়। আগের মতো খেজুর গাছ এখন আর নেই। ইটভাটায় খেজুর গাছ পোড়ানো, জলাবদ্ধতাসহ নানা কারণে গাছের সংখ্যা কমে গেছে। সে কারণে খেজুরের রস ও গুড় এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। পেশাদার গাছির সংখ্যাও কমে গেছে।তাই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে সরকারের কাছে।

শেয়ার

আরও খবর
© All rights reserved © 2020 dainikdristipat.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com
themesbazardristip41